ইতিহাসে মিথ্যা টিকতে পারেনি : মোশাররফ

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আজকে ইতিহাস নিয়ে যতই ঘোর প্যাচ করবেন, সত্য সত্যই আর বানোয়াট বানোয়াটই।

সত্য কোনো দিন পরাজিত হয় না, বানোয়াট মিথ্যা কিছু দিন হয়তো সত্যকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সত্য অবশেষে প্রকাশ পাবেই। পৃথিবীর ইতিহাসে মিথ্যা কোনো দিন টিকে থাকেনি, পরিশেষে জয় হয়েছে।’

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এ সব কথা বলেন তিনি।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজকে সব অন্যায়, সব অসত্যের বিরুদ্ধে একটাই লক্ষ্য আমাদের, এটা থেকে পরিত্রাণ পেতে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদ সরকার যারা ইতিহাস নিজেরা লেখেন তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্র সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

স্বাধীনতা দিবস নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই স্বাধীনতা দিবস তো জিয়াউর রহমান ঠিক করেননি, ঠিক করেছেন ১০ এপ্রিল দেশে যে অস্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, সেই অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি ১১ এপ্রিল একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন সেখানে তিনি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, ২৬ মার্চ একটি এলাকা দখল করে সেই এলাকা থেকে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ ঘোষণা করছি সেজন্য ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘২৬ মার্চ সকালে জিয়াউর রহমান পটিয়ার একটি পাহাড়ে তাদের ক্যাম্প স্থাপন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করার জন্য, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে ২৬ মার্চের শেষ প্রহরে তিনি নিজের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২৭ মার্চ তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এটাতো ইতিহাস।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আজকে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান বাঙালিদের হত্যা করেছে এবং ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান বাঙালিদের হত্যা করার সময় তাকে ধরে নিয়ে কালুরঘাট বন্দি করে রাখা হয়। তিনি যখন ক্যাম্প স্থাপন করে ২৬ মার্চের শেষ প্রহরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র নিজের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন, আর ২৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা দিলেন। যদি তিনি জনগণের কাছে বন্দি থাকতেন তাহলে এ কাজগুলো খীভাবে করলেন? দুঃখজনক স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আমাদের এ ধরনের ইতিহাস শুনতে হচ্ছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *