জামায়াতকে দাওয়াত দেয়নি বিএনপি !

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বিএনপি। গত ১ মার্চ গুলশানের লেকশোর হোটেলে কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেই অনুষ্ঠানে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিলেও নিজেদের প্রধান মিত্র দল জামায়াতকে দাওয়াত দেয়নি বিএনপি। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপি গঠিত জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষণা ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বছরব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দীর্ঘদিন যাবত প্রস্তুতি নেয় বিএনপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানায় তারা। আমন্ত্রণ জানানো হয় আওয়ামী লীগসহ সরকারপন্থি কয়েকটি দল, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত নাগরিক ঐক্য, গণফোরাম, জেএসডিকে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি কার্যালয়ে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ ধরনের একটি বড় অনুষ্ঠানে বিএনপির সবচেয়ে কাছের মিত্র ও বড় শরিক জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ জানায়নি বিএনপি। ২০ দলীয় জোটের শরিক নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও জামায়াতের কোনো নেতাকে দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি গঠিত জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা জামায়াতকে দাওয়াত দিয়েছি কি না সে বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে চাই না। এটা পুরনো খবর। ’

২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘জামায়াতকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, এটা আপনাকে কে বলেছে? আমার জানামতে জামায়াতকে দূরে রাখার মতো কোনো সিদ্ধান্ত বিএনপিতে হয়নি। অনুষ্ঠানে তারা কেন আসেনি, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। আর দাওয়াত দিয়েছে কি না সেটাও যারা দাওয়াত দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন তারা বলতে পারবেন। ’

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিএনপি দাওয়াত দিয়েছে কি দেয়নি সে বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। তবে ওই একই দিন আমাদেরও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ছিল, সেজন্য আমরা আমাদের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলাম। ’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এখনও ২০ দলীয় জোটেই আছে। আমরা বিএনপির সঙ্গেই আছি। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ’

২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বাংলানিউজকে বলেন, ‘জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, অথবা সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে জামায়াতকে দাওয়াত দিয়েছে কি না— এসব বিষয়ে জোটের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সেদিন অনেক দলের নেতাকে অনুষ্ঠানে দেখেছি। কিন্তু জামায়াতের কাউকে দেখিনি। এটা বিএনপি-জামায়াতের কৌশলগত রাজনীতিও হতে পারে। আমাকে দাওয়াত দিয়েছিল, আমি গিয়েছিলাম। এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারবো না। ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *