বাংলাদেশের অর্জনে কী অবদান বিএনপির?

মহান স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জন্ম হলেও এই ৫০ বছরে তারা একাধিকবার সরকার গঠন করেছে এবং প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকাও পালন করেছে। এখনও কার্যত প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। যদিও তারা সংসদে বিরোধীদল নয়।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে বিএনপি বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ফলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনে তাদের দলীয় কর্মসূচি স্থগিত করেছে।

এই ৫০ বছরে বাংলাদেশের যে অর্জন তাতে বিএনপির ভূমিকা কতটুকু- এ প্রশ্নে দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, ‘বিএনপি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার দল।

গণতন্ত্রায়নের দল। বাংলাদেশের একদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে বিএনপি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির যে ভিত্তি তা বিএনপি করেছে।’

দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির অর্জন অনেক। একদলীয় শাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিএনপি ফিরিয়ে দিয়েছে।

স্বাধীনতা-উত্তর দেশে আওয়ামী লীগসহ সবাইকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে বিএনপি। বটমলেস বাস্কেট থেকে একটা আধুনিক বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল বাংলাদেশ বিশেষ করে আজকের গার্মেন্টস, রেমিট্যান্স এগুলো বিএনপির হাতে গড়া।

এগুলো জিয়াউর রহমান করেছেন। পরবর্তীতে আবার যখন স্বৈরাচার এরশাদ গণতন্ত্র হরণ করেছেন আবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছেন। এরশাদের পতন ঘটিয়েছেন। এর প্রতিদান হিসেবে জনগণ তাকে বিজয়ী করেছেন। এখন আমরা আবার সেই স্বৈরাচারের হাতে পড়লাম।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আছে। এই লড়াইয়ে বিএনপি নেত্রী জেলে (সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত হয়ে মুক্ত)। আমি নিশ্চিত বিএনপি আবার জয়ী হবে। আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। দুর্নীতিতে থেকে রক্ষা করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।’

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বিএনপির অর্জন কতটুকু- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘৫০ বছরে বিএনপির ভূমিকা অপরিসীম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তিনি গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছন।

বিএনপির আমলে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিএনপির আমলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল। বিএনপির আমলে প্রথম আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়, সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করা হয়। দেশের যে উন্নয়নের ভিত্তি তা শহীদ জিয়াউর রহমানের আমলে করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীকালে বাংলাদেশের যে গণতন্ত্র ব্যবস্থা সেটা প্রতিষ্ঠা করেন বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের যে কথা বলা হয় সেই মন্ত্রণালয় ও খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠা করেন।’

ফখরুল বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নারীর ক্ষমতায়নের জন্য একটি নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় তৈরি করেন। দেশের স্বাধীনতা পদক প্রদান শুরু হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়। আজকে (রেমিট্যান্স) বাইরে যে মানুষ যাচ্ছেন, বিদেশে চাকরি করছেন, কাজ করছেন,

টাকা আনছেন এ যাত্রা শুরু করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এবং কৃষিক্ষেত্রে যে স্ট্রং উন্নয়ন সেটিও করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আজকে বাংলাদেশে যে অর্থনীতির উপর টিকে আছে সেটিতেও জিয়াউর রহমানের অবদান সবচেয়ে বেশি।’

তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার আমলে দেশের শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বড় অবদান বিএনপির। গত ১০ বছরে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে বিএনপি। গত ১০ বছরে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ যে ফ্যাসিবাদী রুল চালু করেছে, তার বিরুদ্ধে বিএনপি আন্দোলন-লড়াই করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য আজ বিএনপির চেয়ারপারসনকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ২০টি মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছিল, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে মামলা দিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করার জন্য ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে। এ আমলে অনেক গুম হয়েছে, খুন হয়েছে। বিএনপির আমলে মানুষ সবচেয়ে শান্তিতে ছিলেন।’

১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বিএনপির উত্থান নিয়ে নানা আলোচনা-অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো বিতর্ক নেই। ১৯৭৫ সালে বিএনপি ছিল না। ১৯৭৫ সালের ঘটনা ঘটিয়েছিল সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগের লোকজন। খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল সবাই আওয়ামী লীগের লোক। সেসময় রক্ষীবাহিনী, সেনাবাহিনী, সব ছিল আওয়ামী লীগের। এখানে বিএনপির কোনো ভূমিকা ছিল না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিক। এখানে আওয়ামী লীগ তার বিরুদ্ধে বিতর্ক সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে, এখানে কোনো বিতর্ক নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *