সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যায় উপকারী খাবার

পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম ঠাণ্ডা-কাশির সমস্যায় ভালো কাজ দেয়।
ঋতু পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ঠাণ্ডা কাশির সমস্যা দেখা দেয়।

পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের পুষ্টিবিদ ও সনদপ্রাপ্ত ডায়াবেটিস প্রশিক্ষক ডা. অর্চনা বাতরা বলেন, “কিছু খাবার ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ও প্রদাহ নাশক উপাদান সমৃদ্ধ যা আমাদেরকে ঋতুভিত্তিক ব্যাধি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।”

মহামারীর এই সময়ে নিজেকে সুস্থ রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই।
মধু: প্রাচীনকাল থেকেই মধু এর ব্যাক্টেরিয়া-রোধী উপাদানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাচীন মিশরে মধু কেবল ক্ষত নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হত।

বাতরার মতে, “মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও দেহকে আর্দ্র রাখতে ভূমিকা রাখে।”

এর ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল’ উপাদান ঠাণ্ডা-কাশি ও গলা ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করলে উপকার মিলবে। অথবা চায়েও মধু দিয়ে পান করা ভালো।

আদা: প্রাকৃতিক প্রদাহরোধী, ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল’ ও ক্যান্সার-রোধী উপাদান সমৃদ্ধ।

বাতরা বলেন “অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আদা ঠাণ্ডা থেকে হওয়া বমিভাব কমায়।”
সুপ বা চায়ের সঙ্গে কাঁচা আদা খেতে পারেন। ভাইরাল সংক্রমণ এড়াতে অন্যান্য মসলা দিয়ে আদা সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা করে পান করতে পারেন।

রসুন: রসুনে রয়েছে ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাস রোধী উপাদান। আর এটা প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে।

বাতরার পরামর্শ হল, “নিয়মিত রসুন খাওয়া ঠাণ্ডা কাশির ঝুঁকি কমায়।”

সম্পূরক হিসেবে রসুন খাওয়া ঠাণ্ডার প্রখরতা কমায় ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। খুব বেশি ঠাণ্ডা লাগলে প্রতিদিন সকালে কাঁচা রসুন খেলে উপকার মিলবে। অথবা সকালে রসুনের সুপ বা ঝোল তৈরি করেও খাওয়া যায়। এতে গলা ব্যথা কমবে ও শরীর উষ্ণ থাকবে।

মুরগির সুপ: সহজপাচ্য ও প্রয়োজনীয় খনিজ, ভিটামিন, প্রোটিন ও ক্যালরি সমৃদ্ধ। অসুস্থ শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান যোগাতে মুরগির সুপ উপকারী।

এটা ইলেক্ট্রোলাইট উপাদান সমৃদ্ধ যা জ্বর থেকে সুস্থ হতে সাহায্য করে। গরম মুরগির সুপ শ্লেষ্মা দূর করতে ও গরম ভাপের মতো প্রাকৃতিক নিরাময়ক হিসেবেও কাজ করে বলে জানান, বাতরা।

মুরগির মাংসে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ঠাণ্ডা কাশির সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে সহায়তা করে।

দই: ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও উপকারী প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ। এই সকল পুষ্টি উপাদান রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও সাধারণ ঠাণ্ডা কাশির ঝুঁকি কমায়। এটা রোগীর অসুস্থতার সময়ে প্রয়োজনীয় ক্যালরি সরবারহ করে।

যদিও দুধের তৈরি খাবার সবার জন্য উপযোগী নয়।

তাই বাতরা এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “দই খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। জমাট সর্দির সমস্যা থাকলে দই খাওয়া এড়ানো উচিত।”

সবুজ শাক সবজি: এর পুষ্টিগুণের কথা সবারই জানা। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজি যেমন- পালংশাক, ব্রকলি, কপি, মরিচ ইত্যাদি খাবারে যোগ করা ভালো।

বাতরা বলেন, “সবুজ খাবার বিপাকে সহায়তা করে ও অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে। ভিটামিন এ, কে, সি, আঁশ ও খনিজ উপাদান সাধারণ সর্দি দ্রুত উপশমে সহায়তা করে।”

মনে রাখতে হবে

সাধারণ ঠাণ্ডা কাশি থেকে দ্রুত সেরে ওঠা নির্ভর করে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় যেমন- পর্যাপ্ত বিশ্রাম, শরীর আর্দ্র রাখা ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করার ওপর।

ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেরই ঠাণ্ডা লেগে থাকে। তাই এই সময়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনে করা উচিত। খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখার পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম যেমন- যোগ ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি ইত্যাদি চালিয়ে যাওয়া উচিত। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, পরামর্শ দিলেন বাতরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *