রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর উপায়

বাজারে মটরশুঁটি রয়েছে। এটি বিশেষত দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ, এরা শরীরে হজমে কিছুটা সময় নেয়। এর অর্থ, আপনি খাওয়ার পরে দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখবে; এই কথাগুলো এ জন্য আসল, অতিরিক্ত ওজন কিন্তু কোলেস্টেরল বাড়ায় জানালেন পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক আয়োজনে কোলেস্টেরল বাড়ার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বলেছেন পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরা। তিনি বলেন, ওজন হ্রাস ও কোলেস্টেরল কমাতে চাইলে মটরশুঁটি হতে পারে উপযুক্ত একটি খাবার। সপ্তাহে দুই বা তিনবার সামুদ্রিক মাছ খেলে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমে যায়। কারণ, এতে রয়েছে এলডিএল হ্রাস করার ওমেগা থ্রি।

ওমেগা থ্রি রক্তে প্রবাহিত ক্ষতিকর উপাদান হ্রাস করে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে। সামুদ্রিক মাছ বলতে স্যামন, টুনা এগুলোই যে হবে তা নয়। আমাদের দেশে যে ইলিশ মাছ রয়েছে, তাও কিন্তু সামুদ্রিক। লবণকে সীমাবদ্ধ করে আনতে হবে। সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ প্রতিদিন ২৩০০ মিলিগ্রাম বা এক চা চামচের কম হতে হবে।

প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে। ফলমূল ও শাকসবজি সমৃদ্ধ একটি ডায়েট আপনার শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে। ফলমূল ও শাকসবজিতে বিদ্যমান স্টেরল নামে পরিচিত যৌগ দ্রবণীয় ফাইবারের মতো কাজ করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে।

পুষ্টিবিদ সিরাজাম মুনিরার পরামর্শ, কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে এমন খাবার রয়েছে, সেগুলো আমরা এড়িয়ে চলব। কিছু নিয়ম মানলেই কিন্তু আমরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারি। ব্যায়ামকে একটি অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। এটি আপনার খারাপ বা এলডিএল কোলেস্টেরলকে হ্রাস করে এবং আপনার ভালো যে কোলেস্টেরল, এইচডিএলের মাত্রা বৃদ্ধি করে।

আপনার রক্তচাপের জন্যও কিন্তু ভালো এবং আপনার হৃদয়কে শক্তিশালী করে। প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটুন। না হয় ১৫ মিনিট জগিং করুন। একটি স্বাস্থ্যকর ওজন আপনার জন্য খুবই দরকার। আপনার ওজন যদি বেশি হয়, তাহলে কোলেস্টেরলও বেশি থাকবে। তবে কমে যাওয়ার ফলে আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক পথে ফিরে আসবে।

এই সঠিক পথের সর্বোত্তম উপায় হলো, আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি সঠিকভাবে ব্যালেন্স ডায়েট করতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ডায়েটিশিয়ানের শরণাপন্ন হতে হবে।

সিরাজাম মুনিরা আরও বলেন, কৃত্রিম ট্রান্সফ্যাট এড়িয়ে চলুন; বেক পণ্য, স্ন্যাক খাবার, পিৎজা, মার্জারিন, কফি ক্রিমার, বিস্কুট ইত্যাদি বাদ দিতে হবে। এগুলো ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ এবং এগুলো খুবই ক্ষতিকর।

ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি করে খাবেন। আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বা ভালো ফ্যাট জাতীয় খাবার খাবেন। ধূমপান, অ্যালকোহল এগুলো বর্জন করতে হবে। সবশেষে একজন ডায়েটিশিয়ান হতে পারে আপনার বন্ধু। তাই সুস্থ থাকতে সঠিক ডায়েট চার্টটি করে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *