বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশকে অনুরোধ আলালের

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিএনপির প্রতিপক্ষ না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

তিনি বলেন, ‘মুক্ত বাংলাদেশের জন্য যেখানে যেটা প্রয়োজন আমরা সেটাই করব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কাছে আমাদের অনুরোধ। দয়া করে আপনারা আমাদের প্রতিপক্ষ হবেন না।’

শনিবার (৬ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, আজ দেখলাম এই সমাবেশে আসার সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাইয়েরা পথে পথে আমাদেরকে আটকাচ্ছেন। সমাবেশে আসতে নিষেধ করছেন। পল্টন মোড়ে আটকাচ্ছেন, সমাবেশের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছেন। কাউকে বাসে-উঠতে দিচ্ছেন না। আর ইরফান সেলিমের বাসা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে, র্যাব দিয়ে মদ, অস্ত্র উদ্ধার করলেন। সেই মামলায় তাকে মুক্তি দিয়ে দিলেন। এভাবে বিচার করলে মানুষের মনের মধ্যে যে ভক্তি ও সম্মান সেটা ধরে রাখার কষ্ট হয়ে যায়।

পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশ পুলিশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের গর্বিত সদস্য। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অবদান রয়েছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আপনাদের অবদান রয়েছে। আপনারা তাহলে কেন উল্টো পথে চলতে চাচ্ছেন? এটা আমাদের বড় কষ্ট লাগে। এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের অসংখ্য জনগণ রয়েছে। এই জনগণের মধ্যে কারও না কারও আত্মীয় বড় অফিসার রয়েছে। আবার কোনো না কোনো বড় অফিসারের আত্মীয় এই আওয়ামী লীগ সরকারকে পছন্দ করে না। তাই বলে কি সবাইকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে? তাই বলে কি সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে? পথে পথে আটকাতে হবে? এটা আপনাদের পবিত্র দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

আলাল বলেন, দেশে আজ যে দুই রকমের আইন চলছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরের যে সুবর্ণজয়ন্তীতে গণতন্ত্রকে সুবর্ণ নয়, বিবর্ণ করে দিয়েছে। এই বিবর্ণ গণতন্ত্র দিয়ে দেশ চলতে পারে না। দেশের বর্তমান যে অবস্থা, এই অবস্থা দেখার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি।

তিনি বলেন, লুটেরা রাজত্ব করবে, ভোট ডাকাতরা যা খুশি তাই করবে, ঘরের মধ্যে সাগর-রুনি নিরাপদ না। রাস্তায় সাধারণ মানুষ শাজাহান খানের গাড়ির চাপায় কারণে নিরাপদে নেই। জেলখানায় মুশতাক নিরাপদ না। এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি।

আলাল বলেন, ‘এখন না হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হয়েছে। কিন্তু ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম যখন গুম হয়েছে, তখন তো এই আইন ছিল না। তাহলে কেন এত মানুষ মরতে হলো?’

আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও তার ভাইয়ের মধ্যে মারামারির কারণে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। কি কারণে? তার অপরাধ কি ছিল?

পুলিশ প্রধানের উদ্দেশ্যে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আইজি সাহেব বলেছেন— পুলিশের কি অপরাধ, পুলিশকে মারল। পুলিশকে মারার যারা পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা তাদেরকে সমর্থন করি না। কিন্তু আইজি সাহেব আপনাকে বুঝতে হবে, পুলিশের বেশিরভাগ সদস্য অন্যায় আদেশ পালন করতে চান না। আপনারা উপর থেকে চাপ দিয়ে তাদেরকে অন্যায় আদেশ পালন করতে বাধ্য করেন। এই অন্যায় আদেশ তারা বেশিদিন মানবে না। যাদের দেশপ্রেম আছে, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। তারা এই অন্যায় আদেশ বেশি দিন মানবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *